পুজোর আনন্দের মাঝেই মহানগরে বড়সড় বিপর্যয়। সপ্তমীর সন্ধ্যায় ভিড়ের চাপে ভেঙে পড়ল চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপের একাংশ। পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি বলে জানা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পুজোমণ্ডপের দরজা।
তবে গেট ভেঙে পড়ার ফলে কারও কারও আঘাত লেগেছে, বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। সবমিলিয়ে সংখ্যাটা ৩৫ এর কাছাকাছি। সকলকে উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিপর্যয় সামাল দিতে তৎপরতা তুঙ্গে পুজো উদ্যোক্তাদের। সঙ্গে সঙ্গে খবর পেয়ে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের অফিসাররা সেখান পৌঁছন।
দুর্গাপুজোর মণ্ডপের কাছে সিপিএমের বইয়ের স্টল বসানো মামলায় পুলিশের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করল হাই কোর্ট। কেউ বইয়ের দোকান দিলে কিসের সমস্যা, প্রশ্ন তুলল আদালত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের মন্তব্য, "সেখানে তো কোনও লটারি দোকান দেবেন না।
বইয়ের দোকান দেবেন। অসুবিধার কী আছে?" বিরোধী রাজনৈতিক দলের কণ্ঠস্বর যাতে রোধ না হয়, সে বিষয়টিও তুলে ধরে আদালত।সিপিএমের অভিযোগ, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় একটি মণ্ডপের সামনে তারা স্টল বসানোর অনুমতি পাচ্ছে না। তা নিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় তারা। বুধবার বিচারপতি ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে সিপিএমের আইনজীবীর সওয়াল, বহু বছর ধরে তারা সেখানে বইয়ের স্টল দিয়ে আসছে। এই বছর হঠাৎ অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। অথচ অন্যদের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। সিপিএমের বক্তব্য, হিন্দু জাগরণ মঞ্চও সেখানে বইয়ের স্টল বসানোর অনুমতি পেয়েছে। সে ক্ষেত্রে সিপিএম ছাড়া বাকিদের কাছে স্টল বসানোর প্রয়োজনীয় অনুমতি রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে সিপিএম। শুনানির এক পর্যায়ে বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, "এক পক্ষকে (অনুমতি) দেওয়া হবে, অন্যদের দেওয়া হবে না— এটা ঠিক নয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলের কণ্ঠস্বরকে এ ভাবে দাবিয়ে দেওয়া উচিত নয়।"এ দিন এজলাসে রাজ্যের হয়ে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎনাথ মিত্র। তাঁর বক্তব্য, এই মামলাটি পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা বা অতিসক্রিয়তা সংক্রান্ত মামলা নয়। এটির সঙ্গে পুলিশের কোনও সম্পর্ক নেই। তাই সিপিএমের মামলাটি বিচারপতির ভট্টাচার্যের বেঞ্চ শুনতে পারে না বলে এজলাসে জানান তিনি। মামলাটি যাতে উপযুক্ত বেঞ্চে শোনা হয়, সেই আবেদন জানান তিনি।
সুপ্রিম কোর্টে গিয়েও স্বস্তি পেলেন না প্রশান্ত বর্মন। স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ এবং খুনের মামলায় মূল অভিযুক্ত রাজগঞ্জের তৎকালীন বিডিও প্রশান্তের কাণ্ডকারখানায় বিস্মিত সুপ্রিম কোর্টও। তাঁর মামলা খারিজ করে দিয়ে শীর্ষ আদালতের মন্তব্য, "একজন ব্যক্তি পুরো সিস্টেমকে উপহাস করে রেখে দিয়েছেন।" কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ ছিল, গত বৃহস্পতিবারের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে প্রশান্তকে।
কিন্তু তিনি তা করেননি। উল্টে সে দিনই হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন ফেরার প্রশান্ত। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে মামলাটি উঠলে আদালতের ভর্ৎসনার মুখে পড়ে রাজ্যও। সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন, কেন রাজ্য পদক্ষেপ করেনি? দুই বিচারপতির বেঞ্চ রাজ্যকে বলে, “আপনারা কী করছেন? হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে এখনই পদক্ষেপ করুন।" হাই কোর্টের নির্দেশের প্রেক্ষিতে যে সুপ্রিম কোর্ট কোনও পদক্ষেপ করতে রাজি নয়, তা-ও স্পষ্ট করে দেয় বিচারপতি কুমার এবং বিচারপতি পাঞ্চোলির বেঞ্চ। প্রশান্তের আচরণ নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করে আদালত। প্রশান্তের আইনজীবীর উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন, তাঁর মক্কেল কেন এখনও আত্মসমর্পণ করেননি? আদালতের মন্তব্য, "একজন ব্যক্তি পুরো ব্যবস্থাকে (সিস্টেমকে) উপহাস করে রেখে দিয়েছেন। এই আদালত আগে নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও তা অমান্য করেছেন। আমরা অবাক হয়ে যাচ্ছি। কী ভাবে এমন হতে পারে?"
জানালার কাচ ভাঙা! ঘরের ভিতর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে সেই জানালার কাচ। একদম সাত-সকালে দুষ্কৃতী হামলা হয়েছে আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে। অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ থেকে শুরু করে মদের বোতল ছুড়ে হামলা চালানো হয়েছে প্রবীণ এই আইনজীবীর বাড়িতে। আর এই ঘটনার পরই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিকাশ ভট্টাচার্য। এবার পুলিশি নিরাপত্তার কথা বলছেন তিনি। সঙ্গে জানিয়েছেন, নিজের সঙ্গে লাইসেন্স প্রাপ্ত রিভলবার রাখবেন।
এই প্রথম নয়, এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। প্রাক্তন এই সাংসদের বাড়ির সামনে এসে কটু কথা বলতে শোনা গিয়েছে। কিন্তু সেই নিয়ে ততটা সরব হতে দেখা যায়নি সিপিএম এই নেতাকে। তবে, বৃহস্পতিবার তাঁর বাড়িতে হামলার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছেন তিনি। এ দিন তিনি বলেন, "আমি পরিষ্কার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কমিশনার অব পুলিশের কাছে রিভলবারের লাইসেন্স চাইব। আমার কাছে লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিভলবার থাকবে, আশপাশে যাঁদের দেখব তাঁরা যেন প্রস্তুত থাকে। " বিকাশের বাড়ির হামলার একটি সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, গামছায় মুখ বেঁধে এক ব্যক্তি বাইক চালিয়ে হাজির হন। তাঁর হাতে ছিল প্যাকেট। এরপর মুখ ঢেকেই গালিগালাজ করতে-করতে মদের বোতল ছুড়তে থাকেন বিকাশের বাড়ি লক্ষ করে। সঙ্গে বলতে থাকেন, "আমরা হলাম দেশভক্ত। আমাদের সঙ্গে লাগবি না।"একদম সাত-সকালে এই ঘটনা ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত বিকাশ ভট্টাচার্যের পরিবারের সদস্যরা।
প্রয়াত হলেন নানা পটেকর। বর্ষীয়ান এই অভিনেতার বয়স হয়েছিল ৭৫। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ায় নিজের বাড়িতে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ সংজ্ঞা হারান তিনি। চিকিৎসকদের চেষ্টাতেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। বৃহস্পতিবার ভোরে বাড়িতে বুকে ব্যথা অনুভব করেন নানা। তার পরেই সংজ্ঞা হারিয়ে পড়ে যান তিনি।
ভোর সওয়া ৫টা নাগাদ তড়িঘড়ি তাঁকে গোয়ার মণিপাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, তার আগে ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর দিয়ে তাঁকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করেছিলেন সেখানকার চিকিৎসকেরা। কিন্তু চিকিৎসকদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ওই হাসপাতালেই নানার দেহের ময়নাতদন্ত হবে।
ভোট শেষ। এবার অপেক্ষা ফলাফলের। আগামী ৯ তারিখ রেজিনগর উপনির্বাচনের ফল ঘোষণা হবে। এমন সময় চোখে জল নিয়ে বড় মন্তব্য আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের। তাঁর দাবি, রেজিনগরে বড় জয় পাবে বিজেপি। এজন্য পুলিশ প্রশাসনকেও একহাত নেন হুমায়ুন। এর পাশাপাশি একরাশ অভিমান নিয়ে নওদার বিধায়ক বলেন, "যতদিন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী থাকবেন ততদিন বিধানসভায় যাব না। এজন্য নওদার মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেব।"
প্রয়োজনে রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাঅবসর নেবেন বলেও জানান আম জনতা উন্নয়ন পার্টি প্রধান। মঙ্গলবার ছিল 'হেভিওয়েট' নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে উপনির্বাচন। গত বিধানসভা নির্বাচনে নওদা এবং রেজিনগর থেকে জয় পান হুমায়ুন। নিয়ম অনুযায়ী রেজিনগর ছেড়ে দেন তিনি। এই আসনে নিজের ছেলেকেই প্রার্থী করেন হুমায়ুন। কিন্তু মঙ্গলবার ভোট শুরু হতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। ভোট দিয়ে বেরিয়ে পুলিশের উদ্দেশে দফায় দফায় ‘কুকথা’ বলার অভিযোগ ওঠে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে। এমনকী ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এমনকী প্রকাশ্যে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একেবারে অশালীন ভাষায় আক্রমণ শানান আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান। এরপরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দীর্ঘ প্রায় ১২ ঘণ্টা পর মুক্তি পান। এরপরেই আজ, বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রীতিমতো পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন হুমায়ুন। শুধু তাই নয়, রাজনীতিতে তিনি যে বিতশ্রুদ্ধ তাও ফুটে ওঠে তাঁর বক্তব্যে। হুমায়ুন বলেন,"যে গণতান্ত্রিক নিয়মে কোনও নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া একজন পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর একজন বিধায়ককে জোর করে তুলে নিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে, সেই গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি এবং সেই পুলিশমন্ত্রীকেও আমি এড়িয়ে চলতে চাই।" মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে তিনি বলেন, "শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর অধীনস্থ পুলিশ যেভাবে গত দু’মাস ধরে রেজিনগরবাসীর ওপর অত্যাচার করে গেল, তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শুভেন্দু অধিকারীর মতো পুলিশমন্ত্রীর দয়াতে হুমায়ুন কবীর রাজনীতি করবেন না।"
ফের ইডির দফতরে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে তলব করেছিল ইডি। বুধবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে ইডির দফতরে (সিজিও কমপ্লেক্স) পৌঁছোন তিনি। আজ, মঙ্গলবার ইন্দ্রনীলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাঁর সমস্ত সংস্থার ১০ বছরের আর্থিক লেনদেন এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি-সহ বুধবার বেলা ১১টা নাগাদ কেন্দ্রীয় সংস্থার দফতরে হাজিরা দিতে।
ইডি সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদ জেলার তৃণমূলের পর্যবেক্ষক পদে থাকার সময় তিনি ওই জেলায় সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তা ছাড়াও ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজো কার্নিভালের ভিআইপি পাস বিক্রি (মাস আর্ট মামলা), চলচ্চিত্র উৎসব ও কলকাতা বইমেলায় আর্থিক তছরুপ এবং নিজের ঘনিষ্ঠ সংস্থাকে বেআইনি ভাবে টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। প্রাথমিক তদন্তে ইডির অনুমান, ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। সেই সংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই বুধবার তৃণমূল নেতাকে তলব করেছে ইডি।