মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের বাজেট অধিবেশনের শেষ দিন সোমবার। পূর্বনির্ধারিত সূচি মেনে ওই দিন বিধানসভায় পেশ হতে পারে চারটি বিল (অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন সংশোধনী বিল, তোলাবাজি ও গুন্ডা দমন সংক্রান্ত দু’টি বিল এবং ওবিসি সংরক্ষণ সংশোধনী বিল )। কিন্তু অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংক্রান্ত বিলটি কি পেশ হবে সোমবার— তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় আসার পরেই আলোচনা শুরু হয় যে, আগামী সোমবার পেশ হতে পারে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল। কারণ, ওই দিন বিধানসভা অধিবেশনের প্রথমার্ধে নিজের বক্তৃতায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিলের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন শুভেন্দু। পরে রাতেও একটি দলীয় কর্মসূচিতে একই কথার পুনরাবৃত্তি করেছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরেই এই বিল পেশ করার বিষয়ে প্রস্তুতি শুরু করে দেয় বিজেপি পরিষদীয় দল। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরে বিজেপি পরিষদীয় দলের পক্ষে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল নিয়ে আলোচনার জন্য এক ঘণ্টা সময় ধরে রাখা হয়েছে।
এই বিলের পক্ষে আপাতত শাসকদল মুখ্যমন্ত্রীকে একমাত্র বক্তা হিসেবে ঠিক করেছে। পরবর্তী সময় বিজেপি পরিষদীয় দলের তরফে আরও বক্তাদের নাম সংযোজিত হতে পারে। বিজেপি পরিষদীয় দল এমন প্রস্তুতি রাখলেও, বিধানসভার সচিবালয়ের একাংশের কথায়, বিধানসভার শেষ কর্মদিবস ছিল বৃহস্পতিবার। সে দিন সন্ধ্যায় কার্য উপদেষ্টা কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকে সোমবারের জন্য যে সূচি তৈরি হয়েছিল, তাতে চারটি বিলের উল্লেখ থাকলেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিল বা প্রস্তাবের উল্লেখ নেই। ফলে সোমবার সরকার পক্ষ ঠিক কী করতে চায়, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পেশ হলে তার বিরোধিতায় নামবে বিধানসভার সব বিরোধী দল। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহী তৃণমূল শিবির এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের বিরোধিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পাশাপাশি কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়কেরাও এই বিলের বিরোধিতা করার বিষয়ে প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন। এ ছাড়া আমজনতা উন্নয়ন পার্টির সভাপতি তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর, ডোমকলের সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রানা, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী ও কংগ্রেসের দুই বিধায়কও এই বিলের বিরোধিতা করবেন বলে মনস্থির করেছেন। ঋতব্রত শিবিরের এক বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক বলেন, "অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পেশ করা হলে আমরা তার বিরোধিতা করব। কিন্তু বিধানসভার অন্দরে যে প্রক্রিয়ায় বিল পেশ করা হয়, তাতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিলের কোনও উল্লেখ নেই। তাই বিধানসভায় বিলটি আনা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও আমরা অন্ধকারেই।" নিয়মে আছে, কোনও বিল বিধানসভায় পেশ করতে হলে আগে তার বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিলের কপি বিধানসভার সব সদস্যের কাছে পৌঁছে দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে এই শর্ত এখনও পূরণ করা হয়নি। তবে বিজেপি পরিষদীয় দলের একাংশের কথায়, সোমবার সকালে বিজ্ঞপ্তি জারি করে দুপুরে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে কার্যবিবরণী কমিটির বৈঠক বসিয়ে রাজ্য সরকার বিধানসভার দ্বিতীয়ার্ধের শেষে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিলটি পেশ করতেই পারে। সে ক্ষেত্রে ওই দিনই বিলের কপি সমস্ত বিধায়কের টেবিলে পৌঁছে দেওয়া হতে পারে।
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন