প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় শুধু অডিয়ো নয়, একটি ভিডিয়ো রেকর্ডিংয়ের কথাও জানতে পেরেছে কেন্দ্রের তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। চাকরিপ্রার্থীদের ঘুষের টাকা কী ভাবে লেনদেন করা হত, তা ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন সিবিআইয়ের কাছে ওই মামলায় বয়ান দেওয়া এক সাক্ষ। সিবিআই তাঁর বয়ান ইতিমধ্যে রেকর্ডও করেছে। ওই সাক্ষী জানিয়েছেন, ভিডিয়োটি মুছে ফেলতে তাঁকে ফোন করে বার বার অনুরোধ করেছিলেন স্বয়ং কালীঘাটের কাকু। প্রাথমিক মামলার তদন্তে নেমে ওই সাক্ষীকে জেরা করে এই তথ্য জেনেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তবে সংশ্লিষ্ট ভিডিয়োটি সিবিআই হাতে পায়নি। প্রাথমিক মামলার তৃতীয় অতিরিক্ত চার্জশিটে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাথমিক মামলায় চার জন সাক্ষীর কাছ থেকে মোট ১০টি ডায়েরি উদ্ধার করেছে সিবিআই। তাঁদের বয়ানও রেকর্ড করা হয়েছে। ওই চার জন অরুণ হাজরার 'এজেন্ট' হিসাবে কাজ করেছেন বলে দাবি সিবিআইয়ের। তাঁরা চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে ঘুষের টাকা সংগ্রহ করে তুলে দিতেন সুজয়কৃষ্ণের হাতে। তেমনি এক এজেন্ট ঘুষ দেওয়া-নেওয়ার ভিডিয়ো নিজের ফোনে রেকর্ড করেছিলেন। সিবিআইয়ের কাছে তিনি দাবি করেছেন, সুজয়কৃষ্ণের 'অনুরোধে' পরে তিনি ওই ভিডিয়োটি ফোন থেকে মুছে দেন। উপরন্তু, সুজয়কৃষ্ণ ওই এজেন্টকে জানান, প্রমাণ লোপাট করতে নিজের দু-টি মোবাইল ফোনও কালীঘাটে আদিগঙ্গার জলে ফেলে দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ, ২০২৫
রাজ্যের বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়ার সুপারিশ!
বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য বারবার তৃণমূলকে দরবার করতে দেখা গিয়েছে দিল্লিতে। গত কয়েক বছরে এই বিষয়ে কথা বলতে দিল্লি ছুটে গিয়েছেন রাজ্যের শাসক দলের হেভিওয়েট নেতারা। অবশেষে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জন্য আশার খবর। বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করল সংসদের গ্রামোন্নয়ন সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটি।
১০০ দিনের কাজ সহ যে সব ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া রয়েছে, সেই সব টাকা অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। যে অর্থবর্ষ নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে, সেই বছর বাদে বাকি বছরের টাকা অবিলম্বে দেওয়া হোক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই কমিটিতে তৃণমূলের যে সব সদস্যরা রয়েছেন, তাঁরা আগেই তথ্য সহ একটি রিপোর্ট পেশ করেছেন। কমিটিকে বোঝানো হয় যে কীভাবে পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চনা করা হচ্ছে। সেই রিপোর্টে আরও দাবি করা হয় যে ওই বকেয়ার জেরেই রাজ্যের গ্রামোন্নয়নে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে, ধাক্কা খাচ্ছে রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতি। এছাড়া পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে বলেও উল্লেখ রয়েছে রিপোর্টে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে এবার বরাদ্দ টাকা দিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছে স্ট্যান্ডিং কমিটি।
তবে, স্ট্যান্ডিং কমিটির সুপারিশ মানতে বাধ্য নয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রক। তবে সুপারিশের পর কেন্দ্র কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই থাকবে নজর। <
যাদবপুরকাণ্ডে আরও এক পড়ুয়া গ্রেফতার!
যাদবপুরকাণ্ডে আরও এক পড়ুয়াকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শৌন্যদীপ ওরফে উজান নামে দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের ওই পড়ুয়াকে বুধবার ডেকে পাঠানো হয়েছিল যাদবপুর থানায়। জিজ্ঞাসাবাদের পরেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে তৃণমূল সমর্থিত কর্মী সংগঠন 'শিক্ষাবন্ধু'র অফিসে অগ্নিকাণ্ড ঘটে যায়। তা নিয়ে থানায় অভিযোগও দায়ের হয়। ওই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে শৌন্যদীপকেও। বলে রাখা ভাল, এত আগে এই মামলায় সাহিল আলি নামে এক পড়ুয়াকে আগেই গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। বুধবার আলিপুর আদালতে তাঁর জামিন মঞ্জুর হয়েছে।
বুধবার, ১২ মার্চ, ২০২৫
চলতি মাসের শেষে ব্রিটেন যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী!
চলতি মাসের শেষে ব্রিটেন যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বক্তব্য রাখবেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে। মমতার এবারের বিদেশ সফরে ইতিমধ্যে সবুজ সংকেত দিয়েছে কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রক। বুধবার বিধানসভায় জানিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। ২২ তারিখ লন্ডন উড়ে যাবেন তিনি। সূত্রের খবর, সাতদিনের বিদেশ সফরে ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী এবং গবেষকদের সামনে বক্তব্য রাখবেন তিনি। সেখানে সংস্কৃতি থেকে পর্যটন, অর্থনীতি থেকে রাজ্যের উন্নয়ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরবেন। এর পাশাপাশি আবার লন্ডনের একটি শিল্প বৈঠকেও যোগ দেবেন তিনি। লক্ষ্য বাংলায় বিনিয়োগ টানা। রাজ্যের শিল্পবান্ধব পরিবেশের কথা বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলে ধরবেন তিনি। ২৯ মার্চ শহরে ফিরবেন মমতা।
OBC মামলা; কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে নিয়োগ কেন?
![]() |
কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে শুরু হয়েছিল নিয়োগ প্রক্রিয়া। এ নিয়ে বুধবার আদালতে প্রশ্নের মুখে পড়লেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। যদিও তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে নেন মুখ্যসচিব। বলেন, "আর ভুল হবে না।" তবে যে সব বিভাগ কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, সেইসব অফিসারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে। কী পদক্ষেপ করা হল, ২ এপ্রিল মুখ্যসচিবকে হলফনামা দিয়ে আদালতকে জানাতে হবে, নির্দেশ বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও রাজশেখর মন্থর ডিভিশন বেঞ্চের। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ওবিসি শংসাপত্র ব্যবহার করে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়ে গিয়েছে রাজ্য সরকার। এরপরই আদালত অবমাননার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। বুধবার বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও রাজশেখর মন্থর ডিভিশন বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি ছিল। আজ মুখ্যসচিবকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশ মেনে ভারচুয়ালি আদালতে হাজিরা দেন মনোজ পন্থ।
পুরস্কার বিতরণ নিয়ে পাক বোর্ডের অভিযোগ; গুরুত্ব দিল না আইসিসি
ফের মুখ পুড়তে পারে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পুরস্কারমঞ্চে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কোনও প্রতিনিধি না থাকায় যে অভিযোগ তারা করেছে, তা মানতে নারাজ আইসিসি। পাকিস্তানের অভিযোগ, পাক বোর্ডের সিওও তথা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ডিরেক্টর সুমাইর আহমেদ দুবাইয়ের স্টেডিয়ামে থাকার পরেও তাঁকে মঞ্চে ডাকা হয়নি। এই অভিযোগ ধোপে টিকছে না। পাল্টা আইসিসির এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নিয়ম মেনেই সব কিছু করা হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ডিরেক্টর হওয়ায় সুমাইরকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানাতে হবে, তেমন কোনও নিয়ম নেই।
আইসিসির এক আধিকারিক সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, "সুমাইর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মচারী। উনি বোর্ডের আধিকারিক নন। খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন কবে কোন প্রতিযোগিতার ডিরেক্টর পুরস্কার মঞ্চে থেকেছে। আইসিসির আধিকারিক গৌরব সাক্সেনা এক বার এশিয়া কাপের ডিরেক্টর ছিলেন। তিনি কি পুরস্কারমঞ্চে ছিলেন? যা ইচ্ছা অভিযোগ করলেই তো হবে না। নকভিকে আমরা আমন্ত্রণ করেছিলাম। উনি আসেননি।"
পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক দেশ। নিয়ম অনুযায়ী মঞ্চে থাকা উচিত ছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কোনও কর্তার। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি রজার বিন্নী এবং সচিব দেবজিৎ শইকীয়া থাকলেও পাকিস্তানের কোনও ক্রিকেট কর্তা ছিলেন না। ছিলেন আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহও। অর্থাৎ, মঞ্চের তিন প্রধান অতিথিই ভারতীয় ছিলেন। তাঁরাই ক্রিকেটারদের মেডেল ও ব্লেজার পরিয়ে দেন। রোহিত শর্মার হাতে ট্রফি তুলে দেন শাহ। এই ঘটনার পরেই শুরু হয় বিতর্ক।
অধ্যক্ষ বিমানের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাবে বিজেপি; বিস্ফোরক শুভেন্দু
বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এবার সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিধায়কদের দলবদল নিয়ে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন তিনি। মঙ্গলবার বিধানসভার বাইরে সাংবাদিক বৈঠকে বিমানকে 'বিরলের মধ্যে বিরলতম স্পিকার' বলেও কটাক্ষ করেন বিরোধী দলনেতা।
বিজেপির একের পর এক বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। গতকালই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন তাপসী মণ্ডল। বিধায়কদের দলবদল নিয়ে এদিন শুভেন্দু বলেন, "২০১১ সাল থেকে ৫৬ জনকে দলবদল করিয়েছেন স্পিকার। বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস, আরএসপি কাউকে বাদ দেননি।"
তারপরই স্পিকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, দলবদল করলেও তা বিধানসভায় বলার সাহস নেই কারও। শুভেন্দুর কথায়, "বাইরে বলবে তৃণমূল। ভিতরে বলবে বিজেপি। আমাদের তো সংখ্যা কমেনি। আমরা তো ৭০-ই আছি। যদি বুকের পাটা থাকে, বিধানসভার ভিতরে দাঁড়িয়ে বলুন, আমি তৃণমূল।"






