রাজ্যে ডিম ছোড়ার সংস্কৃতি নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উল্টো কথা বললেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শমীক বলেছিলেন, কারও বিরোধিতা করতে গিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া কোনও 'সুস্থ সামাজিক ব্যবস্থা' নয়। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার ডাকও দিয়েছিলেন তিনি।
যদিও দিলীপ তা চান না। উল্টে তিনি বুদ্ধিজীবী এবং সমাজবিরোধীদের মাথায় ডিম ছোড়ার নিদান দিয়েছেন। বুদ্ধিজীবীদের একাংশকে সমাজবিরোধীর তকমাও দিয়েছেন। 'ডিম্বাস্ত্র'-কে বাঙালির এক অভিনব আবিষ্কার বলে মনে করেন দিলীপ। বারুইপুরে ১২ বছরের নাবালিকার গণধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় ধৃত এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের এনকাউন্টারে। রাতের অন্ধকারে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁকে। পুলিশ সূত্রে দাবি, সেই সময়ে এক পুলিশকর্মীর হাত থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। পুলিশের পাল্টা গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়। এই এনকাউন্টারের বিরোধিতায় সরব হয়েছেন অনেকেই। বিরোধী দলগুলির দাবি, বিনা বিচারে অভিযুক্তের এনকাউন্টার পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি নয়। যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে এর তুলনা করেছেন অনেকে। বৃহস্পতিবার তা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল দিলীপকে। এনকাউন্টারের বিরোধী হিসেবে প্রশ্নকর্তা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, গর্গ চট্টোপাধ্যায়দের নাম করেন। দিলীপ শুনে বলেন, "যে নামগুলি বললেন, বুদ্ধিজীবী নাম। তাঁরা সকলেই সমাজবিরোধী। অপরাধ যে এত বেড়ে গিয়েছে, তার নেপথ্যে এই কমিউনিস্ট এবং বুদ্ধিজীবীরা। এঁরা নিজের নাম, ভাবমূর্তি ছাড়া আর কিছু চান না। অপরাধ হলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন, আবার অপরাধীকে শাস্তি দিলে তার বিরুদ্ধেও আন্দোলন! আমি বলছি, ডিম যেখানে সেখানে নষ্ট করবেন না। এই বুদ্ধিজীবীদের মাথায় ডিম মারুন। বুঝিয়ে দিন এঁরা সমাজবিরোধী।"

0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন