ভোট শেষ। এবার অপেক্ষা ফলাফলের। আগামী ৯ তারিখ রেজিনগর উপনির্বাচনের ফল ঘোষণা হবে। এমন সময় চোখে জল নিয়ে বড় মন্তব্য আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের। তাঁর দাবি, রেজিনগরে বড় জয় পাবে বিজেপি। এজন্য পুলিশ প্রশাসনকেও একহাত নেন হুমায়ুন। এর পাশাপাশি একরাশ অভিমান নিয়ে নওদার বিধায়ক বলেন, "যতদিন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী থাকবেন ততদিন বিধানসভায় যাব না। এজন্য নওদার মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেব।"
প্রয়োজনে রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাঅবসর নেবেন বলেও জানান আম জনতা উন্নয়ন পার্টি প্রধান। মঙ্গলবার ছিল 'হেভিওয়েট' নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে উপনির্বাচন। গত বিধানসভা নির্বাচনে নওদা এবং রেজিনগর থেকে জয় পান হুমায়ুন। নিয়ম অনুযায়ী রেজিনগর ছেড়ে দেন তিনি। এই আসনে নিজের ছেলেকেই প্রার্থী করেন হুমায়ুন। কিন্তু মঙ্গলবার ভোট শুরু হতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। ভোট দিয়ে বেরিয়ে পুলিশের উদ্দেশে দফায় দফায় ‘কুকথা’ বলার অভিযোগ ওঠে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে। এমনকী ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এমনকী প্রকাশ্যে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একেবারে অশালীন ভাষায় আক্রমণ শানান আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান। এরপরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দীর্ঘ প্রায় ১২ ঘণ্টা পর মুক্তি পান। এরপরেই আজ, বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রীতিমতো পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন হুমায়ুন। শুধু তাই নয়, রাজনীতিতে তিনি যে বিতশ্রুদ্ধ তাও ফুটে ওঠে তাঁর বক্তব্যে। হুমায়ুন বলেন,"যে গণতান্ত্রিক নিয়মে কোনও নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া একজন পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর একজন বিধায়ককে জোর করে তুলে নিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে, সেই গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি এবং সেই পুলিশমন্ত্রীকেও আমি এড়িয়ে চলতে চাই।" মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে তিনি বলেন, "শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর অধীনস্থ পুলিশ যেভাবে গত দু’মাস ধরে রেজিনগরবাসীর ওপর অত্যাচার করে গেল, তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শুভেন্দু অধিকারীর মতো পুলিশমন্ত্রীর দয়াতে হুমায়ুন কবীর রাজনীতি করবেন না।"
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন