হুগলির সিঙ্গুরে ফিরছে শিল্প। এ ব্যাপারে ভারী বাণিজ্যিক গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে প্রাথমিক ভাবে কথাও হয়েছে। বৃহস্পতিবার নিউটাউনে রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করার পর এ কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে সিঙ্গুরে সভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদীর সভার পাল্টা হিসেবে সিঙ্গুরের অদূরে সভা করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সিঙ্গুর কেন্দ্রে পরাজিত হন মমতার দলের প্রার্থী। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর শিল্পমহলের নজর ছিল তাই সিঙ্গুরের দিকেই। রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় আগেই জানিয়েছিলেন, সিঙ্গুর নিয়ে তাঁদের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। এ বার খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেই সিঙ্গুরে নতুন করে শিল্পায়নের কথা শোনা গেল।
বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে জানান, বামফ্রন্ট জমানার মতো জমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে কৃষকদের রক্ত ঝরবে না। তিনি বলেন, “শিল্পের জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে কৃষকের উপর গুলি চলবে না। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় দু’কোটি শিক্ষিত বেকার। কাজের অভাবে ভিন্রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন ৭০ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক। আদানি গোষ্ঠী আমাকে জানিয়েছিল, তাজপুরে রাজ্য সরকারের নিজস্ব এক একর জমিও ছিল না। ফলে সেখানে বন্দর তৈরি সম্ভব হয়নি। তবে সিঙ্গুরে আমরা কিছু একটা করবই। নামী বাণিজ্যিক ভারী গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে প্রাথমিক ভাবে কথাও হয়েছে। কিন্তু আমরা শুধু মৌ স্বাক্ষর করে লোকদেখানো চমক দিতে চাই না। আগের সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন করত। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আমরা সেই রাস্তায় হাঁটব না।"
নতুন শিল্পনীতির রূপরেখা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিলবে বিশেষ সুবিধা। বড় শিল্পের জন্য আলাদা প্যাকেজ ঘোষণা করে সংস্থাগুলিকে ১২০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হবে। মহিলা কর্মীদের কর্মসংস্থানে মিলবে অতিরিক্ত সুবিধা। প্রয়োজনে কর্মরত মহিলাদের হস্টেল তৈরিতে অনুদান দেবে রাজ্য।

0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন