সামনেই দীপাবলি। পুজোর আবহে ফের বাংলায় চোখ রাঙাচ্ছে করোনা। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্য করোনা আক্রান্ত ৯৭৬ জন। যা আগের দিনের তুলনায় বেশি। যা স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে চিন্তায় ফেলেছে রাজ্যবাসীকে।
সামনেই দীপাবলি। পুজোর আবহে ফের বাংলায় চোখ রাঙাচ্ছে করোনা। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্য করোনা আক্রান্ত ৯৭৬ জন। যা আগের দিনের তুলনায় বেশি। যা স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে চিন্তায় ফেলেছে রাজ্যবাসীকে।
আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে রাজ্যে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল খোলার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। করোনা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ মেনে স্কুলে পঠনপাঠন শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তাঁর দাবি, 'দুর্গাপুজোর পর থেকে রাজ্যে লাফিয়ে-লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। এই অবস্থায় স্কুল খোলা সমীচীন হবে কিনা তা নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া দরকার।' রাজ্যে নতুন করে সংক্রমণ বাড়ার বিষয়টি নিয়ে বুধবার এক ভিডিয়ো বার্তা দেন অধীর। পাশাপাশি, ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে রাজ্য সরকারকে তোপ দাগেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর কথায়, 'কোভিড ও ডেঙ্গুতে রাজ্য সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান সত্য নয়। আসল তথ্য গোপন করা হচ্ছে।'
এর পাশাপাশি স্কুল, কলেজ সহ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীকে বিবেচনা করার আবেদন জানিয়ে অধীর বলেন, 'রাজ্যে কোভিড বাড়ছে, ডেঙ্গি বাড়ছে। কোভিডে মৃত্যু হলেও স্বীকার করা হয় না। ডেঙ্গিতে মৃত্যু হলেও স্বীকার করা হয় না। সরকারি তথ্যের থেকে পাঁচ থেকে সাত গুণ কোভিডে মৃত্যু হয়েছে এ রাজ্যে। এই অবস্থায় স্কুল খোলা সমীচীন হবে কিনা তা নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া উচিত। এটাই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমার অনুরোধ।'
করোনার কারণে দীর্ঘ দিন বন্ধ ছিল স্কুল-কলেজ। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পরেই আগামী সোমবার থেকে ৫০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী নিয়ে দিল্লিতে খুলছে সব স্কুল। প্রতিটি শ্রেণির পঠন পাঠনই শুরু হচ্ছে। দিল্লির বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা জানিয়েছেন দিল্লির উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণীশ শিশোদিয়া।
তবে স্কুলে শারীরিক ভাবে উপস্থিত থাকাটা ছাত্র ও অভিভাবকদের ইচ্ছের উপর ছাড়া হয়েছে।
সামনেই কালীপুজো এবং দীপাবলি এবং ছট পুজো। আর এই পুজোতে বাজি ফাটানোর নিয়ম বেঁধে দিল রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। উৎসবের দিনগুলোতে কতক্ষণ বাজি ফাটানো যাবে, তা স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিল পর্ষদ।
রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তরফে জানান হয়েছে, পরিবেশবান্ধব বাজি ফাটাতে হবে। কালীপুজো, দীপাবলিতে মাত্র দু-ঘণ্টা বাজি ফাটানো যাবে।
কোভিড বিধি মেনে এবার দুর্গাপুজো অনুমতি দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পুজো সময়ে মানুষের ঢল নেমেছিল মণ্ডপে মণ্ডপে। উৎসবের পর কিন্তু করোনা দৈনিক সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বাজি পোড়ানো নিয়ে ইতিমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন রোশনি আলি নামে এক সমাজকর্মী। তাঁর আর্জি, বাজির ধোঁয়ায় করোনা রোগীর শ্বাসকষ্ট বাড়ে। অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন সাধারণ মানুষও। সেকারণে এবারও বাজির পোড়ানো ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হোক।
জল্পনা ছিল অনেক দিন ধরেই। বেশ কিছুদিন ধরে বিজেপি সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর বিরোধ প্রকট হয়ে উঠেছিল। অবশেষে তৃণমূলে ফিরলেন রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। তৃণমূল সূত্রে আগেই জানা গিয়েছিল, বুধবার বিকেল তিনটে নাগাদ কলকাতায় তৃণমূলে যোগ দেবেন তিনি। পরিকল্পনা মতোই কাজ হল। ঘাসফুল শিবিরে ফিরে এলেন কৃষ্ণ। কয়েকমাস ধরেই বেসুরো ছিলেন তিনি।
ভাল খবর আশাকর্মীদের জন্য। এবার দুয়ারে গিয়ে জল পরীক্ষার জন্য আশাকর্মীদের ১০০ টাকা করে দেওয়া হবে। জল পরীক্ষার জন্য দিনে যে ক-টি কিট ব্যবহার করা হবে সেই কিট পিছু ১০০ টাকা করে দেওয়া হবে আশাকর্মীদের।
জানা গিয়েছে, জনস্বাস্থ্য কারিগরির অধীনে প্রায় ২১৭টি ল্যাবরেটারি রয়েছে। যে সব এলাকায় জনস্বাস্থ্য কারিগরি জল সরবরাহ করে থাকে সেই সব এলাকা থেকে জল সংগ্রহ করে এই পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। এক্ষেত্রে জলের রিপোর্ট পেতে বেস কিছুদিন অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়া বাড়ি বাড়ি জল সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পঞ্চায়েত থেকে লোকও সময়মতো পাওয়া যায় না। তাই দুয়ারে গিয়ে জল পরীক্ষার ব্যবস্থা করছে রাজ্য সরকার। বাড়ি বাড়ি জল পরীক্ষা করার জন্য আশাকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এ বিষয় জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের সঙ্গে স্বাস্থ্য দফতরের কথা হয়ে গিয়েছে। খুব শীঘ্রই আশাদের এই প্রশিক্ষণ শুরু করতে চলেছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর।
শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক চলে আসছে বেশ কয়েক বছর ধরে। অনিয়মের অভিযোগে দায়ের হয়েছে মামলা। সেই মামলার কারণে আটকে আছে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া। এমনটাই দাবি করেন রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা। আইনি জালে আটকে থাকা উচ্চ প্রাথমিকের নিয়োগ প্রক্রিয়া কবে শেষ হবে তা এখনও বলা বেশ কঠিন।
মূলত দীর্ঘ দিন নিয়োগ না হওয়ায় যথেষ্ট সংখ্যক শিক্ষক বা প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নেই গ্রাম-মফস্সলের অনেক স্কুলেই।
গ্রামীণ এলাকার অধিকাংশ শিক্ষক চান, ১৬ নভেম্বর স্কুল খুললে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদেরও অফলাইনে ক্লাস করার অনুমতি দেওয়া হোক। শহরাঞ্চলের বহু স্কুল অবশ্য জানাচ্ছে, তারা অন ও অফ দুই লাইনেই ক্লাস চালু রাখবে। নবম-দ্বাদশের ক্লাস চলবে অফলাইনে। পঞ্চম থেকে অষ্টম অনলাইনে।
প্রশ্ন উঠছে, নবম-দ্বাদশের যে-সব ছাত্রছাত্রী স্কুলে ক্লাস করতে চায় না, তাদের কী হবে? তা হলে কি ওই চার শ্রেণির জন্য অফ ও অন দুই লাইনই চালু থাকবে? শিক্ষক পাওয়া যাবে কী ভাবে? কিছু স্কুল জানাচ্ছে, নবম-দ্বাদশের কিছু পড়ুয়া অফলাইনে আর কিছু পড়ুয়া অনলাইন ক্লাস চাইলে কী ভাবে সেটা করা যায়, পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।