'যোগ্য' তালিকায় জায়গা না পাওয়া শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিক্ষোভে ধুন্ধুমার হাজরা মোড়। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি চাকরি হারাদের। আটক বিক্ষোভকারীরা। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের দাবিতে সোমবার কালীঘাট অভিযানের ডাক দেন 'অযোগ্য' চাকরিহারাদের একাংশ। বেলা সাড়ে বারোটায় কিছু সময় পরই এসএসসি ভবনের সামনে থেকে শুরু হয় মিছিল। কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রথমে হাজরা মোড়। সেখান থেকে কালীঘাটে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির উদ্দেশে তাঁদের যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মিছিল হাজরা মোড়ে পৌঁছতেই, ব্যারিকেট দিয়ে আটকে দেয় পুলিশ। এরপরই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন 'অযোগ্য' চাকরিহারারা। ব্যারিকেট ভেঙে তাঁরা এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে কার্যত খণ্ডযুদ্ধ বাঁধে তাঁদের। এরপরই বিক্ষোভকারীদের আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলে পুলিশ। আন্দোলনকারী এক চাকরিহারা বলেন, "আমরা খুন করিনি... ডাকাতি করি। আমরা পরীক্ষা দিয়েছিলাম। যোগ্যতা অর্জন করে স্কুলে চাকরি করতাম। এক রাতেই সব শেষ হয়ে গিয়েছে। লোকজন আমার দিকে সন্দেহের চোখে তাকায়। আমরা ন্যায়বিচার চাই।"
সোমবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৫
প্রাথমিকের ৩২ হাজার নিয়োগ বাতিল মামলা; শুনানি শুরু ৭ মে
প্রাথমিকের ৩২ হাজার চাকরি বাতিল মামলার শুনানি শুরু হবে ৭ মে। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের এজলাসে শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি ছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ৩২ হাজার নিয়োগ বাতিল মানেই আইনজীবীদের দীর্ঘ সারি তাঁদের বক্তব্য রেখে যাবেন। কিন্তু এত সময় দেবে না আদালত। ফলে যাঁদের একই বক্তব্য ও একই ইস্যু, সেই আইনজীবীদের একজনের নেতৃত্বে বক্তব্য জানাতে হবে। এর আগে গত ৭ এপ্রিল এই মামলার শুনানি ছিল। কিন্তু বিচারপতি সরে দাঁড়ানোয় এই মামলা স্থগিত হয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার প্রার্থী। পর্ষদ ২০১৬ সাল থেকে তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে। চাকরি দেওয়া হয় ৪২ হাজার ৯৪৯ জনকে। কিন্তু ওই নিয়োগে একাধিক 'ত্রুটি'র অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রশিক্ষণহীন ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রাক্তন বিচারপতির রায় ছিল, চাকরি বাতিল হলেও ওই শিক্ষকরা স্কুলে যাবেন। তবে তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে রাজ্যকে। ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করেছিল রাজ্য। গত ৭ এপ্রিল ডিভিশন বেঞ্চে ওই মামলার শুনানি ছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে এই মামলা থেকে অব্যাহতি নেন বিচারপতি সৌমেন সেন।
শনিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৫
চাকরিহারা গ্রুপ সি অশিক্ষক কর্মীদের মাসিক ২৫ হাজার, গ্রুপ ডি কর্মীদের ২০ হাজার ভাতা: মুখ্যমন্ত্রী
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি হারানো গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি-র অশিক্ষক কর্মীদের জন্য মাসিক ভাতার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যতদিন না পর্যন্ত রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন করছে এবং সেই আবেদনের ফয়সালা হচ্ছে, ততদিন এই ভাতা দেবে রাজ্য সরকারের শ্রম দফতর।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, চাকরিহারা গ্রুপ সি-র কর্মীদের মাসিক ২৫ হাজার এবং গ্রুপ ডি-র কর্মীদের মাসিক ২০ হাজার টাকা করে ভাতা দিতে চায় রাজ্য। এ দিন নবান্নে চাকরিহারা গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। সেই বৈঠকের মাঝেই ফোনে চাকরিহারাদের এই প্রস্তাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের প্রস্তাব মেনে নিলেও চাকরিহারা শিক্ষাকর্মীদের প্রতিনিধিরা গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি দুটি ক্ষেত্রেই ভাতার পরিমাণ ৫ হাজার টাকা করে বাড়ানোর অনুরোধ করেন। যদিও সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু জানাননি মুখ্যমন্ত্রী।
শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৫
সুপার নিউমেরারি পোস্ট নিয়ে বিশেষ নির্দেশ আদালতের;তৈরি হবে নতুন পদ?
পরে মামলা যায় সুপ্রিম কোর্টে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। এবার হাইকোর্টে আর্জি, সুপার নিউমেরারি পোস্ট তৈরি করতে দিতে হবে। শুক্রবার বিচারপতি বসুর বেঞ্চে রাজ্য জানায়, সুপার নিউমেরারি পোস্ট নিয়ে মামলায় অন্তর্বতী স্থগিতাদেশ থাকায় নিয়োগ সম্ভব নয়। রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়, ২০২৩-এর ১৮ এপ্রিল হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হলে রাজ্য এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু জানতে চান, সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের কী বক্তব্য ছিল। বিচারপতি আরও প্রশ্ন করেন, আপনারা কি আজ এই মুহূর্তে চাকরি দিতে প্রস্তুত? এরপর বিচারপতি বলেন, "কোনও মৌখিক আর্জি নয়। আপনারা আবেদন করুন। আমি এটা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব। শুধু জানতে চাইছি শীর্ষ আদালত কী কী ক্ষেত্রে বাধা দিয়েছে।"
মূল মামলাকারীর আইনজীবী জানিয়েছেন, সিবিআই তদন্তে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে রাজ্যের কী বক্তব্য? সেটাও জানতে চান বিচারপতি। রাজ্য বলে, 'আমরা হলফনামা জমা দিতে চাই।' আগামী ৬ মে মামলার পরবর্তী শুনানি।
'সব পাকিস্তানিদের খুঁজে বের করুন';নির্দেশ দিলেন অমিত শাহ
এবার সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের ফোন করে তাঁদের রাজ্যে বসবাসকারী পাকিস্তানিদের দ্রুত চিহ্নিত করার নির্দেশ দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ পহেলগাঁও হামলার পরেই পাকিস্তানিদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। ভারতে বসবাসকারী সব পাকিস্তানিদের যাতে খুঁজে বের করা যায়, সেই উদ্দেশ্যেই প্রতিটা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের এমন বার্তা দিয়েছেন শাহ। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ভারতে বসবাসকারী সব পাকিস্তানির ভিসা বাতিল করেছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ভারতে বসবাসকারী পাকিস্তানিদের ভিসা বৈধ থাকবে। যাঁরা চিকিৎসা করানোর জন্য ভারতে রয়েছেন, সেই সমস্ত পাকিস্তানিদের আরও ৪৮ ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে।
ভারত দাবি করেছে, পহেলগাঁও হামলার পিছনে যে পাকিস্তানের যোগ রয়েছে, সেই প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এনডিটিভি-তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি আমেরিকা, রাশিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, যুক্তরাজ্যের মতো দেশের কূটনীতিকদের পাক যোগের প্রমাণও দেখিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৫
অপেক্ষার অবসান, ২ মে ফলপ্রকাশ মাধ্যমিকের!
পরীক্ষার্থীদের অধীর অপেক্ষার অবসান। মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের তারিখ জানিয়ে দিল পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদ। আগামী ২ রা মে, শুক্রবার ফল প্রকাশ মাধ্যমিকের। ওইদিন সকালে ফল প্রকাশ করবে মাধ্যমিক বোর্ড। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফল প্রকাশের দিনই প্রথম ১০ তম স্থান পর্যন্ত মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে। ইতিমধ্যেই ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে বোর্ড। এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ১০ ফেব্রুয়ারি। আর পরীক্ষা শেষ হয় ২২ ফেব্রুয়ারি। এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ৮৯৪। যা গত বছরের থেকে ৬২ হাজারেরও বেশি। রাজ্যের মোট ২ হাজার ৬৮৩টি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা দেয় পরীক্ষার্থীরা।
জরুরি বৈঠকে বসলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, কোন বড় ইঙ্গিত?
পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারতের প্রত্যাঘাতের প্রহর গুনছে পাকিস্তান। ইতিমধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের তরফ থেকেও একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেটি মূলত পাকিস্তানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিটির বৈঠক বলে জানা গিয়েছে। বুধবার দফায় দফায় বৈঠকের পর ভারত যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে দু-দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক তথা অর্থনৈতিক বিষয়টিও সরাসরিভাবে ধাক্কা খাবে। সেই পরিস্থিতির মোকাবিলা কীভাবে করা যায়, তার রূপরেখা তৈরি করতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বৈঠক ডেকেছেন।
হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে পাকিস্তানের বায়ুসেনাকে। আরব সাগরের পাক নৌবাহিনীর মহড়ার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির।
পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর তিন বাহিনীর প্রধানদের নিয়ে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পহেলগাম ঘুরে দিল্লি ফেরার পরেই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে শুরু হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির বৈঠক। আড়াই ঘণ্টা চলে সে বৈঠক। আপাতত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ছ-দফা কূটনৈতিক বাণ ছোড়ে ভারত। তবে কেবল কূটনৈতিক নয়, পাকিস্তান ভারতের আরও বড় কোনও পদক্ষেপের আশঙ্কা করছে। সে কারণেই পাক প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বৈঠক বলে জানা যাচ্ছে।






